বৃহস্পতিবার, ২৭ আগস্ট, ২০০৯

শনিবার, ২২ আগস্ট, ২০০৯

বানভাসী মানুষের আর্তনাদ

বানভাসী মানুষের আর্তনাদ
মোহাম্মাদ সোহরাব আজিজ

দক্ষিনের নিদারুন খরা আর উত্তরের উজান
যায় যায় আজ নিরীহের পরান
উজানের প্রচন্ড ঢলে তিস্তার বন্যার জলে লন্ডভন্ড ঘরবাড়ি
চরখড়িবাড়ির সাওতাল পাড়া ,ডুবে আছে বন্যার তোড়ে,
পানিবন্দী মানুষ আজ ,এক দুর্বিষহ জীবন-যাপন।
ছোটখাতা গ্রামের হাজেরা খাতুন
ঘরের চাটি বেড়া নষ্ট,
বাচ্চাকাচ্চা আর গরু ছাগল নিয়ে,
করে বেড়িবাঁধে রাত যাপন,
কলাগাছের ভেলায়,কয় লালমনিরহাটের মোল্লায়-
"কাইল হঠাৎ করি বন্যাটা আসি হামার বাড়িঘরত পানি উঠিলো,
রোয়াগুলি ডুবি গেলো। এলাহামার কি হইবে জানে আল্লায়,
রান্না করিব জায়গা নাই,রাত থাকি না খায়য়া আছি,
হামারা বানভাসী।''

উত্তরাঞ্চল খুব নিম্নাঞ্চল ,ভারিবর্ষন আনে প্রবল প্লাবন
টানা ভারিবর্ষন,
উজানের পাহাড়ী ঢল
ঠাকুরগাঁও পঞ্চগড় নদীর পানিতে টলমল
অবিরাম ভারিবর্ষনে কুল ছুঁইছুঁই ,নদীকুল নেতিয়ে পড়ে
চারিদিকে তীব্র ভাংগন। নিষ্ঠুর লাগাতার বর্ষন।
বগুড়া,শেরপুরের নালিতাবাড়ীতে জলাবদ্ধতা
প্লাবনের ক্রুদ্ধতা,ভাংগে যাবতীয় পুন্যতার স্তব্দতা।
প্লাবিত আত্রাই,মান্দা,জমুনেশ্বরী,চিকলী,চৌহালী
প্রবল বর্ষনে হু হু করে মহাদেবপুর , বদরগঞ্জ রংগপুরের।

উজানের প্লাবনে টাঙন নদীর ভাঙন,করতোয়া,শুক,পূণর্ভবা,চাওয়াই,
তালমা ,কুরুম,ভুল্লি,রাশিয়া,নাহনা,নাগয়া,পাটকী,গাবুরা,বনাচন্ডী
শিনুয়া,লাছি,নাখাল,আমল-ধামল,তিরনই,
ব্যাংরাং,গাওক ভেরসা,কুলিক, আর নাগনদী
অজস্র নিরীহ মানুষ থৈথৈ পানিবন্দী।

ভাসিয়ে নিলো আমন,পুকুরের মাছ,গাছ ,পশু,ভেঙ্গেছে কাঁচাবাড়ি,
বন্যার্তের অর্ধাহার আর অনাহার ,পেটের ক্ষুধায় কাঁপে হাড়্ড়ি।


শুক্রবার, ২১ আগস্ট, ২০০৯

ডিপজলের বাগান বাড়ী

টেনারী শিল্প নগরী,
ডিপজলের বাগান বাড়ী,
মারপিট আর হাতাহাতি,
এলাকাবাসী খ্রিপ্ত,
চালায় হামলা, হয় মামলা,
পুলিশের লাথিচার্জ,এলাকাবাসীর নিক্ষেপ ইট ।
শাকিল ,সাথী করে রিয়েল মারপিট
আর নায়ক জাহিদ খান।
বখাটে মিজান,
বিল্লাল,তোকাম্মল আর জামাল
করে যত গোলমাল,
নায়িকা রুমানার শর্ট নিয়ে টানাটানি,
বেয়াদপ ইয়ামিন
অসভ্যের হাড্ডি পলাতক,
দিতে হবে তার নাকেয় খত,
ডিপজলের প্রযোজনা করে যেন বানচাল।
সিনেমার একি হালচাল।

~এ দেশ তোমার আমার~
গুরুগম্ভীর হাবভাব
বাংলায় আজ পোশাক- আশাকের বড়ই অভাব।

মঙ্গলবার, ১১ আগস্ট, ২০০৯

আমার পিতার লাশ

আমার পিতার লাশ
আগষ্টের কালোরাতের ধ্বংসযজ্ঞ

মোহাম্মাদ সোহরাব আজিজ
১১ ই আগষ্ট,২০০৯,নিউ ইয়র্ক

আগষ্টের কালোরাতের ধ্বংসযজ্ঞ!
ঘাতকেরা কেড়ে নিলো নিষ্ঠুর হাতে
জাতির সমস্ত অর্জন।
বাংলার আঁচল আবার রাঙ্গা লাল
বাংলার বুকে হায়েনারা নাচে
ছদ্মবেশী নব্য দালাল বেশে,
রক্তমাখা হাতে করে উলাল।

আগষ্টের অকাল মৃত্যুর ধ্বংসযজ্ঞ!
জনকের পতিত লাশ,
রাজনীতিজীবির দুর্নীতিবাজ
বাংলার আকাশে কালমেঘের উদয়
রক্তক্ষয়ী স্রোতে আবার ভিজে হৃদয়,
কাঁদে নিয়ে হাঁটি
পতিত পিতার মরদেহ।

ঘাতকেরা উড়ায় জাতির পতাকা
রক্তাক্ত বীরের বুকের পর
পিতার রক্তে লাল করে আবার বাংলার আঁচল
শহীদেরা স্তব্দতায় ডুবে,
করুনার পাত্র যেন এক অসহায় লাশ,
ধান্দাবাজ কাপুরুষ কেড়ে নেয়
জাতির কালপুরুষের শেষ নিঃশ্বাস।

পিতা ছিলেন এক প্রানপুরুষ
মায়ের সবুজ আঁচলে লিখেন লাল কালির আলোতে
স্বাধীনতা,স্বাধীনতা।
চিত্রকর আঁকে মানচিত্র বিশ্ব মানচিত্রে
পটভুমি মাটি আর মানুষ।
শিশিরে ভেজা ভোরের স্নিগ্ধতায় ভরা বাংলার বুক
প্রেমপ্রীতি সম্প্রীতির নতুন তিথি
বেলা অবেলায় গেয়ে উঠি যেন সাম্যের নীতি।
'স্বপ্ন দেখি বাংলাদেশ
শরীরের রন্ধ্রের গান,
বুকের তাজা রক্ত দিয়ে আঁকবো মায়ের নাম'।

দালালেরা উলাল করে আজ মজিবরের বাংলায়
দাতালেরা মরন কামড় মারে মানসী প্রতিমায়।
দেশ বেঁচিয়া খেতে চায় যাবতীয় বেশ্যায়
পিতার রক্তমাখা স্বপ্নগুলি ধুলিতে মিলায়।

আহারে কুক্ষ্যাত তালুকদার!
ছন্নছাড়া করলো আমার পরিবার,
আজ ভাইয়ের বুকে চুরি চালায় মায়ের পেটের ভাই,
নববধূ লাশ হয় স্বামীর হাতে,
তালুকদারেরা ভাল্লুকের মত থাবা মারে,
আবার আমার বাংলার বুকে
আমি কি করে আজ থাকি সুখে?












সোমবার, ১০ আগস্ট, ২০০৯

মিরুর চোখ উৎপাটন

মিরুর চোখ উৎপাটন

সালিশ
ভদ্রাসন চৌরাস্তা
ভদ্রাসন গ্রাম,তুজারপুর ,ভাঙ্গা, ফরিদপুর।

রায়ের সহোযোগিতায়~
সমাজপতি বশির হাওলাদার,ইউনুচ হাওলাদার,সিদ্দিক বেপারী,জাহাঙ্গীর শরিফ এবং খবির মাতবর
প্রত্ত্যক্ষদর্শী~ তরিকুল ইসলাম

আবু মেম্বার~
মাতবর সাব মিরু বেপারী আমার মোবাইল ফোনসেট চুরি করেছে, আমি বিচার চাই।

মিরু বেপারী~
মাতবর আমি চুরি করি নাই,আমি বেপারী বংশের দরিদ্র বাপের ছেলে।

গ্রামবাসীর সালিশ~
হাজার লোকের চিৎকার
মিরু চুরি করেছে,ওরে শাস্তি দিন।

সাজিদ মাতবর~
গ্রামের মাতবরেরা মিরুকে চোর সাব্যস্ত করেছে,
তাই আমি মিরুর দুই চোখ তুলে ফেলার আদেশ দিচ্ছি।
মিরুর বাপকে ৩০,০০০ টাকা জরিমানা করছি।
সুলতান এবং ছোরমান বেপারী এই আদেশ কার্যকর করবে।

সূলতান বেপারী~
মাতবর সাব আমার মিরু চোর নয়,নাবালগ ১৫ বছর মাত্র,
এটা সাজানো বিচার,এ বিচার আমি মানিনা।
কুক্ষ্যাত মাতবর আজ গডফাদার থেকে গড সেজে বসেছে।
আল্লাহ তুমি এই নরপশুদের বিচার কর।মাবুদ তোমার গজব আর আজাব নাজিল কর।

সাজিদ মাতবর~
"তোর ছেলের চোখ তুই উঠাবি সুলতান বেপারী,
নইলে চার চোখ একসাথে উৎপাটন করবো আমি।"

তোমরা মিরুকে শিকল দিয়ে গাছের সংগে বাধোঁ।
আমি জিবনেও আর ওরে দুনিয়ার আলো দেখতে দিমুনা।
কুত্তার মতো মারপিট কর।
সূলতান আর ছোরমান তোমরা বাপ চাচা মিলে এই দুইটা গাছের ডাল দিয়া চোখ তুলে ফেলো ।

সূলতান বেপারী~
আমি হেরে গেলাম মিরু,আমার কলিজার ধনের চোখ আমি তুললাম।
গাছের ডাল ডুকিয়ে দিলাম।
''আমি সেই দুর্ভাগা পিতা,যে নিজের হাতে ছেলের চোখ উঠাতে বাধ্য হয়েছি।''
সুলতান বেপারীর চোখ দিয়ে অনবরত জল ঝরতে থাকে।ঝরতে থাকে।

~বাংলার বীর~

~বাংলার বীর~
মোহাম্মাদ সোহরাব আজিজ
বাংলা মায়ের দামাল
ছেলে তামিম ইকবাল
অর্ধশত করে রান
জুড়ায় আমাদের পরান।
শত রানে এগিয়ে চলে আশরাফুল,
জিম্বাবুয়ের বিরুদ্ধে করেনা কোন ভূল,
মারে বার বাউন্ডারি
গোটা দুই চক্কা,
আফ্রিকার কালামানিক
পায় ক্রিজে অক্কা।

বৃহস্পতিবার, ৬ আগস্ট, ২০০৯


লাল সবুজ

লাল সবুজ
মোহাম্মাদ সোহরাব আজিজ

আমার আছে জল,
নয়নের গহীন তল,
উথাল পাথাল করে টলমল,
নিঃশ্বাসে আর বিশ্বাসে
লাল সবুজের দল,
বাংলার আঁচল।
আমি কতদিন উড়িয়েছি
লাল সবুজ পতাকা,
আমার ছোট্ট ছেলে বেলা
আমার পড়ালেখা।
৮/৬/২০০৯




আজিজ রেজাকারের মশা
মোহাম্মাদ সোহরাব আজিজ

নুরীর বরাতে মশার কামড়,
রক্তচোষার শুলের ভয়,
হৃদয়ে ধরপর ধরপর,
আহা কি যে বিষধর প্রাণী
খায় নূরীর লালপানি,
বড়ই ইতর জীব বাংলার মশা,
রাতের বেলা বাড়ে উৎপাত
আর খেলতামাসা।
রক্তচোষা মশার দল
কামড় মারে চিরকাল,
করে আমার লাল
চামড়া জমকালো।

মঙ্গলবার, ৪ আগস্ট, ২০০৯

শ্রাবনের বৃষ্টির জন্য প্রার্থনা

শ্রাবনের বৃষ্টির জন্য প্রার্থনা
মোহাম্মাদ সোহরাব আজিজ
৮/৪/০৯

আমনের আবাদ,গ্রামীন জনপদে প্রচন্ড ব্যস্ততা,
দিগন্ত বিস্তৃত মাঠ,
যেখানে পানি সেখানে আমনের আবাদ,
প্রচন্ড খরায় আউশ আর আমন খরাক্লিষ্ট কৃষক,
হেক্টর হেক্টর জমিনের আমনের বিপর্যয় শোক,
মাঝ শ্রাবনের নগন্য বৃষ্টি বরেন্দ্রের বিস্তির্ন ভূমিতে,
ভূমি অঞ্চলে জমি ভেজার সাথে সাথে কৃষকের লাঙ্গল নামে,
বরেন্দ্রের নাগালের বাহিরের জমিনের মালিকের আহাজারি,
আকাশ পানে রহমতের বর্ষনের আশায় কাঁদে,
আকাশে কালো মেঘের আনাঘোনায় আশায় বুক বাঁধে,
একটু দেরিতে সব সর্বনাশ,
বৃষ্টি নির্ভর আমন ফসল একরাশ।

নাচোলের বৈদ্যপুরের কৃষক আজিজের প্রার্থনা
'বর্ষার রুক্ষতা তুলে নাও প্রভূ করো করুনা
আমাদের গোনাহের কারনে আমাদের তুমি
তোমার রহমত থেকে বঞ্ছিত করোনা'।
ফারাক্কার বিরূপ প্রভাবে
পদ্মার মূল নদী মরে গেছে,
বৃষ্টির আকাল আজ,
তানোরের খানপুরে
সবুর মিয়ার গরু ছাগল চরে,
আউশ আর আমনের চাষে বিলম্ব আজ
বিলম্ব চাষাবাদ,সেচনালীর প্রচন্ড অভাব,
আমনুরার মেঘ ঘনকালো,
গোদাগাড়ি বৃষ্টিহীন,
মাঠে কৃষান-কৃষানীর ব্যস্ততা অতীব বিরামহীন।

শনিবার, ১ আগস্ট, ২০০৯

পাঠ করো

পাঠ করো
মোহাম্মাদ সোহরাব আজিজ
৭/৩১/০৯

তুমি আজ পাঠ করো তোমার নিজের কিতাব
জান্নাত নাকি জাহান্নাম করো তার হিসাব।

পাঠ করো তোমার প্রভুর নামে
জ্ঞ্যানের আকাশ তখন খুলে যাবে।

শুক্কুরে শুক্কুরে আট
দিনে দিনে বাড়ে মানুষের পাপ।

মাথা নত করো তোমার রবের দরবারে
আখেরাতে আঁধারের যবনিকা পাত হবে।

মানুষ প্রকৃ্তির শ্রেষ্ঠ সন্তান
অতএব করি আজ মোরা বিধাতার গুনগান।