সোমবার, ১০ আগস্ট, ২০০৯

মিরুর চোখ উৎপাটন

মিরুর চোখ উৎপাটন

সালিশ
ভদ্রাসন চৌরাস্তা
ভদ্রাসন গ্রাম,তুজারপুর ,ভাঙ্গা, ফরিদপুর।

রায়ের সহোযোগিতায়~
সমাজপতি বশির হাওলাদার,ইউনুচ হাওলাদার,সিদ্দিক বেপারী,জাহাঙ্গীর শরিফ এবং খবির মাতবর
প্রত্ত্যক্ষদর্শী~ তরিকুল ইসলাম

আবু মেম্বার~
মাতবর সাব মিরু বেপারী আমার মোবাইল ফোনসেট চুরি করেছে, আমি বিচার চাই।

মিরু বেপারী~
মাতবর আমি চুরি করি নাই,আমি বেপারী বংশের দরিদ্র বাপের ছেলে।

গ্রামবাসীর সালিশ~
হাজার লোকের চিৎকার
মিরু চুরি করেছে,ওরে শাস্তি দিন।

সাজিদ মাতবর~
গ্রামের মাতবরেরা মিরুকে চোর সাব্যস্ত করেছে,
তাই আমি মিরুর দুই চোখ তুলে ফেলার আদেশ দিচ্ছি।
মিরুর বাপকে ৩০,০০০ টাকা জরিমানা করছি।
সুলতান এবং ছোরমান বেপারী এই আদেশ কার্যকর করবে।

সূলতান বেপারী~
মাতবর সাব আমার মিরু চোর নয়,নাবালগ ১৫ বছর মাত্র,
এটা সাজানো বিচার,এ বিচার আমি মানিনা।
কুক্ষ্যাত মাতবর আজ গডফাদার থেকে গড সেজে বসেছে।
আল্লাহ তুমি এই নরপশুদের বিচার কর।মাবুদ তোমার গজব আর আজাব নাজিল কর।

সাজিদ মাতবর~
"তোর ছেলের চোখ তুই উঠাবি সুলতান বেপারী,
নইলে চার চোখ একসাথে উৎপাটন করবো আমি।"

তোমরা মিরুকে শিকল দিয়ে গাছের সংগে বাধোঁ।
আমি জিবনেও আর ওরে দুনিয়ার আলো দেখতে দিমুনা।
কুত্তার মতো মারপিট কর।
সূলতান আর ছোরমান তোমরা বাপ চাচা মিলে এই দুইটা গাছের ডাল দিয়া চোখ তুলে ফেলো ।

সূলতান বেপারী~
আমি হেরে গেলাম মিরু,আমার কলিজার ধনের চোখ আমি তুললাম।
গাছের ডাল ডুকিয়ে দিলাম।
''আমি সেই দুর্ভাগা পিতা,যে নিজের হাতে ছেলের চোখ উঠাতে বাধ্য হয়েছি।''
সুলতান বেপারীর চোখ দিয়ে অনবরত জল ঝরতে থাকে।ঝরতে থাকে।

কোন মন্তব্য নেই:

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন